নবীনগরে পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশা থামিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | নিউজপল্লী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকায় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি অটোরিকশা থামিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে খান সাহেব নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবীনগর পৌরসভার পদ্মপাড়া রোডের আদালতের ত্রিমুখী মোড় এলাকায়। আহত খান সাহেব উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবনগর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, খান সাহেব তাঁর ভাইয়ের বাসা থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন। আদালতের ত্রিমুখী মোড় এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অটোরিকশাটি থামান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তিরা জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।
হামলার অভিযোগ
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খান সাহেব আহত হন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে ধারালো কাঁচি দিয়ে মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য কী?
ঘটনাটি নিয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছিনতাই হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে—এমন তথ্য তিনি পাননি। তবে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
অর্থাৎ, সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন। পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তদন্তে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা
নবীনগরের ব্যস্ত এলাকায় এমন অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ, মারামারি এবং আহত হওয়ার বিষয়গুলো আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, টাকার বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজপল্লীর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের চূড়ান্ত অভিযোগ করা হচ্ছে না। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
