সর্বশেষ খবর

তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপের রহস্য, ৩৮ বছর পর কেন আবার আলোচনায়?

তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপ


তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপ: ৩৮ বছর পরও কাটেনি রহস্য 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান এলাকার একটি পরিত্যক্ত অনুসন্ধান কূপকে ঘিরে কয়েক দশক ধরে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে এলাকায় তেল অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে কূপ খনন করা হলেও সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলনের প্রকল্প আর এগোয়নি।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকায় পুরোনো এই অনুসন্ধান কূপটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ আধুনিক প্রযুক্তিতে আবারও এলাকাটি পরীক্ষা করার দাবি জানাচ্ছেন।

কীভাবে আলোচনায় আসে শালবাহান? 

বিভিন্ন পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া অঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে হাইড্রোকার্বনের সম্ভাবনা নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। এরপর শালবাহান এলাকায় অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

১৯৮৮ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে কূপ খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সে সময় প্রকল্পের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্যও পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। 

তবে উদ্বোধনের পর প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে আর এগোয়নি। পরবর্তীতে কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

শালবাহান কূপকে ‘ড্রাই’ বলা হলো কেন? 

শালবাহান তেলকূপ বন্ধ হওয়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কেউ কেউ রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক চাপের কথা বলে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে Salbahanhat, Tetulia well-কে dry well হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি জ্বালানি খাতের নথিতে কূপটি তেল উৎপাদনের উপযোগী আবিষ্কার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 

তাই ‘তেল পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু কোনো কারণে গোপন করা হয়েছে’—এমন দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

৩৮ বছর পর আবার কেন আলোচনায়? 

শালবাহান কূপটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। 

এই পরিস্থিতিতে দেশের পুরোনো ও পরিত্যক্ত অনুসন্ধান এলাকাগুলো নতুন প্রযুক্তিতে পুনর্মূল্যায়নের দাবি আবারও সামনে এসেছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন করে জরিপের দাবি 

২০২৬ সালের মে মাসে পঞ্চগড়ে স্থানীয় নাগরিকদের একটি অংশ শালবাহান তেলকূপ পুনরায় চালু, আধুনিক প্রযুক্তিতে জরিপ এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে। 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আধুনিক ভূতাত্ত্বিক ও থ্রি-ডি সিসমিক জরিপ করা হলে বর্তমানে ওই এলাকায় তেল বা অন্য কোনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হাইড্রোকার্বনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আসলেই কি সেখানে তেলের মজুত আছে? 

এ মুহূর্তে শালবাহানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য বিপুল তেল মজুত রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধান ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে কয়েক দশক আগে পরিচালিত অনুসন্ধান, কূপ খনন এবং পরবর্তী পরিত্যক্ত ঘোষণার ইতিহাসের কারণে এলাকাটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হতে পারে।

পুরোনো কূপ, নতুন সম্ভাবনা—নাকি শুধু একটি ইতিহাস? 

শালবাহানের গল্পকে ঘিরে জনমনে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—৩৮ বছর আগে যে অনুসন্ধান থেমে গিয়েছিল, আধুনিক প্রযুক্তিতে সেটি কি আবার যাচাই করা সম্ভব?

এর উত্তর নির্ভর করবে নতুন ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন জরিপের ফলাফলের ওপর। তাই অনুমান বা ষড়যন্ত্রের আলোচনা নয়, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবিই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপের রহস্য, ৩৮ বছর পর কেন আবার আলোচনায়?

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপ ৩৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত। পুরোনো অনুসন্ধান, কূপ বন্ধের কারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন করে জরিপের দাবিতে আবারও আলোচনায় এসেছে বিষয়টি।

তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপ

তেঁতুলিয়া, শালবাহান তেলকূপ, পঞ্চগড়ের খবর, পঞ্চগড় তেল খনি, তেল অনুসন্ধান, জ্বালানি তেল, বাংলাদেশ জ্বালানি, শালবাহান, নিউজপল্লী

তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপ

৩৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত শালবাহান তেলকূপ নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।


নিউজপল্লী
লেখকঃ নিউজপল্লী



Font Size
+
16
-
lines height
+
2
-